স্টাফ রিপোর্টার:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করতে দেয়া হবে না
বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দৌলতপুর উপজেলা হলরুমে দৌলতপুর থানা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন, গণভোট ও বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন,
এবারের নির্বাচনে এমন কোনো অশুভ শক্তি যেন ভূমিকা রাখতে না পারে—যারা ভোট গ্রহণকে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে—সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রতিটি ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে নিশ্চয়তা দিতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব ও সহিংসতা প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সবাইকে আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
৫ আগস্ট কুষ্টিয়া থানা থেকে অস্ত্র খোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন বলেন, ‘৫৫টি অস্ত্র কুষ্টিয়া থেকে খোয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে ৩৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একটি অস্ত্রও নিখোঁজ থাকা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’
জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমরা যতদিন থাকব। আপনারদের সঙ্গে নিয়ে সকল অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করব। নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। অস্ত্র কাউকে ব্যবহার করতে দিবো না।’
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মতবিনিময় সভা দুপুর আড়াইটার দিকে শেষ হয়। সভায় নির্বাচন আয়োজন ও প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য দেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিকদার মো. হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল রহমান, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা বেলাল হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহরিয়ার জামিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সাহাবুল ইসলাম।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি, জুলাই যোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।