স্টাফ রিপোর্টার,কুষ্টিয়া : উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ১৭টি পদের জন্য ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৪৩৪ জন ভোটারের মধ্যে ৪১৪ জন ভোট প্রদান করেন।
সভাপতি পদে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবু সাঈদ ১৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল খালিদ মো. সাঈদ পেয়েছেন ১৩৩ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৭ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. এম. শাতিল মাহমুদ ২৪১ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট খ. ম. আরিফুল ইসলাম (রিপন) পেয়েছেন ১৬৫ ভোট।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান ২০৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন দুলাল পেয়েছেন ১৯৬ ভোট। সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক চঞ্চল ১৫৫ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট এস. এম. মনোয়ার হোসেন মুকুল ১৩৫ এবং অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন ১১৬ ভোট পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ২১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট মকলেছুর রহমান পিন্টু ১৪৪ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক ২১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মোছাঃ সুলতানা বেগম (মমো) পেয়েছেন ১৯৭ ভোট। সিনিয়র সদস্য পদে হাফিজুর রহমান হাফিজ (৩৫১ ভোট), আখতারুজ্জামান আক্তার (৩৪৭ ভোট), মোছাম্মদ আয়েশা সিদ্দিকা (৩১৭ ভোট) এবং আশুতোষ কুমার পাল দেবাশীষ (৩১২ ভোট)। এছাড়া জুনিয়র সদস্য পদে, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রানা (৩৩২ ভোট), রবিউল ইসলাম (৩২০ ভোট), সাইফুল ইসলাম সুমন (৩০৪ ভোট) এবং জাভেদ কাইসার জাসিব (২৯১ ভোট) পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ. কে.এম আব্দুর রউফ। এছাড়া সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মোস্তফা শামসুজ্জামান ও মোহাম্মদ আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু। তারা জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ?এবারের নির্বাচনে আদালতপাড়ায় এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। পুরো আদালত চত্বর ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে প্যানেলভিত্তিক নির্বাচনের আধিক্য থাকলেও এবার প্রার্থীরা ব্যক্তিগত ইমেজ ও ভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব ছিলেন প্রার্থীরা। নবনির্বাচিত পরিষদ আগামী এক বছর আইনজীবীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও বিচারালয়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।