
মীর মনিরুজ্জামান,ঢাকা :বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যা চলছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। সকাল-বিকাল প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে, সংশোধনী আসছে, আবার নতুন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ নিয়মিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ধারাবাহিক পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য কার্যকর ও স্থিতিশীল কমিটি অপরিহার্য। অথচ বারবার প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন ও সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তায় প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র নয়। এখানে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ এবং অভিভাবকদের আস্থা জড়িয়ে আছে। নীতিনির্ধারণে বারবার পরিবর্তন আনা হলে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে আসে।
আমরা বিশ্বাস করি—
একটি সুস্পষ্ট, স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করে দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর রাখা জরুরি। হঠাৎ সিদ্ধান্ত, বারবার স্থগিতাদেশ কিংবা প্রজ্ঞাপনের বন্যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মঙ্গলজনক নয়।
এ প্রশ্ন আজ শিক্ষাঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে—
এই অনিশ্চয়তার কি কোনো শেষ নেই?
শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—
দ্রুত স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিশ্চয়তার গণ্ডি থেকে মুক্ত করা হোক।
শিক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী ও স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত।