
স্টাফ রিপোর্টার,কুষ্টিয়া:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল গফুর। তার রাজনৈতিক জীবনে ইউপি সদস্য থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার মতো সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। রাজনীতির মাঠে সব মানুষের কাছে জনপ্রিয় এই নেতা কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন অতীতে। এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানের ধানের শীষের প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আব্দুল গফুরের সঙ্গে নির্বাচনের পরে তার মিরপুর উপজেলার নিমতলা বাজারের পাশে অবস্থিত বাসভবনে বসে কথা হয়। স্মৃতিচারণ করে আব্দুল গফুর বলেন, ‘উপজেলার অঞ্জনগাছি গ্রামে আমাদের বাড়ি ছিল। ইউপি নির্বাচনে আমাদের সমাজ থেকে প্রতি বছর একজন ব্যক্তি ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতেন রেওয়াজ অনুযায়ী। আমার বাবাও ইউপি মেম্বার ছিলেন। ১৯৮২ সালে সমাজ থেকে একজন ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ঠিক আগ দিয়ে তিনি নির্বাচন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত সমাজ মিটিং ডেকে হঠাৎ করেই আমাকে প্রার্থী করে। আমি তখন বয়সে তরুণ। লেখাপড়া করি। আমি তখন খুব একটা লোকজনের সাথে মিশতাম না। নির্বাচন করবো এমন ভাবনাও ছিল না। অপ্রস্তুত ছিলাম। এরপর সবার অনুরোধে ইউপি সদস্য পদে দাঁড়িয়ে আমি জয়লাভ করি। পরের বার আবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে একই পদে জয় লাভ করি।
১৯৯০ সালের পর আমলা ইউনিয়ন থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। এক টানা ১৫ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার উপজেলা নির্বাচনের তপশিল হলে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুল গফুর। মিরপুর উপজেলা পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। টানা ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন জামায়াতের এই নেতা।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল গফুর মনোনয়ন পান দল থেকে। স্থানীয়দের মাঝে বিপুল জনপ্রিয় এই নেতা সংসদ সদস্য পদে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। দুই উপজেলা ও দুই পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৯২ হাজার ৮৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৮২১ ভোট।
আব্দুল গফুর বলেন, ‘জীবনে কখনো ভাবিনি সংসদ নির্বাচন করবো। আমি ইউপি মেম্বার। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম টানা তিনবার। আমি এর বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করিনি। উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমি যখন ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়; ওই সময় মোল্লা মাহমুদ হাসান নামের একজন ইউএনও ছিলেন। তিনি আমাকে দেখে বলেছিলে আপনি এক সময় এমপি হবেন। আমি তখন বলেছিলাম, এমপি হবো এমন স্বপ্ন আম কখনো দেখি না। এরপর আল্লাহর অশেষ রহমতে এবার নির্বাচিত হয়েছি। এটা বড় পাওয়া। আমি এলাকার মানুষের উন্নয়নে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসনে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।