1. live@dailybishowgram.online : www.fnnews24.com www.fnnews24.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com
  2. info@www.dailybishowgram.online : দৈনিক বিশ্বগ্রাম :
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধা যখন সন্ত্রাসী

কুষ্টিয়া অফিস :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আলোচিত সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী নেতা, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নুরুজ্জামান লাল্টু ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এক সময়ের আতঙ্কের এই নাম, যার জীবন ছিল বৈপরীত্যে ভরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরবর্তী সময়ে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্বাধীনতার পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘ কারাজীবন কাটান। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই নিজ গ্রাম কয়রাডাঙ্গায় সহকর্মীদের নিয়ে পুলিশের কাছে শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েকশ রাউন্ড গুলিসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন নুরুজ্জামান লাল্টু। প্রায় ১৯ বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর মোড় পেরিয়ে কয়রাডাঙ্গায় প্রবেশমুখে একটি পুরোনো ইটভাটা এখনো স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান, দক্ষিণাঞ্চল কাঁপানো ৯০ দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ডের মুটুকহীন সম্রাট, জলন্ত ইটভাটার চুলায় জলজ্যান্ত মানুষকে হাত পা বেঁধে পুড়িয়ে মারাই ছিল তার নেশা।
এই জেনারেশন কি চিনবে তাকে ? তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে একটি কলঙ্কিত অলিখিত ইতিহাসের পরিসমাপ্তি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ইট ভাটায় নুরুজ্জামান লাল্টুর নির্দেশে বহু মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বহু নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাবশেষ সেখানে পাওয়া গেছে বলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক তদন্তের ফলাফল সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশিত হয়নি।

১৯৯৯ সালের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তৎকালীন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি লুৎফুল কবীর উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের সামনে লম্বা পাটিতে লাল্টু, তার ভাতিজা বিপ্লব, দীপুসহ শতাধিক চরমপন্থী সদস্য অবস্থান নেন। তাদের সামনে সাজানো ছিল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।
আত্মসমর্পণের সময় নুরুজ্জামান লাল্টু সরকারের কাছে ডিআইজি লুৎফুল কবীরের মাধ্যমে লিখিতভাবে ১৫ দফা দাবি পেশ করেন। দাবির মধ্যে ছিল তার নিজ গ্রাম কয়রাডাঙ্গায় বিদ্যুৎ সংযোগ, টেলিফোন লাইন স্থাপন এবং কাঁচা রাস্তা পাকা করার মতো উন্নয়নমূলক বিষয়। সেদিন এসব দাবি লিফলেট আকারে উপস্থিত সাংবাদিকদের
মধ্যে বিতরণ করা হয়।

নুরুজ্জামান লাল্টুর জীবনকে স্থানীয়রা এক জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ সময় কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অসংখ্য স্বজন হারানো পরিবারের কাছে তিনি ঘৃণিত ও নিন্দিত নাম হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে আছেন।
তার মৃত্যুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় এসেছে, কীভাবে একজন যুদ্ধ-অভিজ্ঞ ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে সহিংস আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রতীক হয়ে উঠলেন, এবং সেই অন্ধকার অধ্যায়ের পূর্ণ সত্য কখন সামনে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট